অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত

আসসালামু আলাইকুম, বন্ধুরা আশাকরি ভালো আছো। আমি কাওসার bdtechhouse24 এর পক্ষ থেকে আজকের পর্বে সবাইকে জানাই স্বাগতম।

অনলাইন থেকে আয় করার বিষয় আমাদের সকলেরই কমবেশি আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে যারা ছাত্র অথবা চাকরি খুঁজছেন এমন। যারা নিজের টাকা দিয়ে চলতে চান। আর এই আগ্রহটা থাকার পেছনে কারণও রয়েছে যেমন, কোন প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতে গেলে মাসিক সালারি হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর সরকারি চাকরিতো সোনার হরিণ। আপনি যদি অনলাইন থেকে আয় করতে চান তাহলে আজকের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
affiliate marketing
ইন্টারনেট থেকে ইনকাম অন্যতম উপায় হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করতে সাহায্য করা। অর্থাৎ কোন প্রোডাক্ট নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে একটা রিভিউ করতে হবে এবং রিভিউ শেষে মূল কোম্পানির লিঙ্ক দিতে হবে যাতে ভিজিটর ওই লিঙ্কের মাধ্যমে প্রোডাক্ট কিনতে পারে। তাহলে মূল কোম্পানি আপনাকে কিছু কমিশন দেবে। আর এটাই হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা অর্জন করতে চান তাহলে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে এবং প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত সময়ের। অর্থাৎ পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম দিতে পারলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা অর্জন করা যায়।

কেন শিখবেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং?

ভালো মানের ইনকামের জন্যঃ

আপনি যদি অনলাইন থেকে ভালো মনের ইনকাম করতে চান তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হতে পারে আপনার জন্য অন্যতম একটি ইনকামের উৎস। যদিও প্রথমদিকে ইনকাম একটু কম হবে। কিন্তু তিন থেকে চার মাস কাজ করার পর আপনিও প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার বা তার থেকে বেশি ইনকাম করতে পারবেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই ইনকাম নির্ভর করবে আপনার কাজের উপরে।সোজা ভাবে বলতে গেলে আপনার পরিশ্রম যত বেশি হবে ইনকাম ও ততো বেশি হবে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যঃ

দিনদিন অনলাইন বিজনেস বেড়েই চলছে। মানুষ প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছে। আর এর সাথে তাল মিলিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পরিধি বেড়েছে। বাংলাদেশ কিন্তু পিছিয়ে নেই। তাই বলা যায় দিন যত সামনের দিকে এগোচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের ভবিষ্যৎ আস্তে আস্তে উজ্জ্বল হচ্ছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার আগে যা প্রয়োজনঃ

বিষয়বস্তু অর্থাৎ নির্বাচন

প্রথমে আপনি কি ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান সেটা নির্ধারণ করতে হবে। পণ্যের ধরণ নির্বাচন করতে হয় সম্পূর্ণ নিজের মেধা আর মন দিয়ে। মনে করেন একটি পণ্য সম্পর্কে আপনার খুব ভালো মেধা আছে। কিন্তু ওই পণ্য নিয়ে আপনার মন একদমই কাজ করতে চাচ্ছে না। তাহলে আপনি ওই পণ্য নিয়ে কাজ করে কখনোই সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। আবার কোন পণ্য নিয়ে আপনার মন কাজ করতে চাচ্ছে কিন্তু সে পন্য সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞান নেই। তাহলেও আপনি সেই পণ্য নিয়ে কাজ করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। তাই সফলতা অর্জন করার জন্য অবশ্যই আপনার মন এবং মেধা উভয় দিয়েই কাজ করতে হবে। অর্থাৎ বিষয়বস্তু বা নিশ নির্বাচন করতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট নিয়ে সামান্য গবেষণা

মনে করেন আমরা ১০ থেকে ১২ বছর পড়াশোনা করে একটা চাকরি পাই। তাও আবার ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে। আর যদি আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করি তাহলে মাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করবো। আর সেজন্য কি আমাকে মোটেও পড়াশোনা করতে হবে না? হ্যাঁ অবশ্যই কিছুটা পড়াশোনা করতে হবে। কিছুটা গবেষণা করতে হবে। প্রথমত আমি পণ্যের বিবরণ কিভাবে সুন্দর করে লিখতে পারি? বর্তমান বাজারে কি ধরনের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে? কমিশন দিচ্ছে কি রকম? পেমেন্ট মেথড গুলো কি কি? সর্বনিম্ন কত পেমেন্ট দেয়? ইত্যাদি বিষয়গুলো গবেষণা করার পর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য নামতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা

এ বিষয়ে আশা করি সকলেরই ধারণা রয়েছে যে কোন কোম্পানির পণ্য নিয়ে কাজ করতে হলে তাদের কোম্পানির ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে। তবে অতি দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে যে বাংলাদেশ থেকে সকল অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে একাউন্ট ক্রিয়েট করা যায় না। তাই সে ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।

ওয়েবসাইট তৈরি করা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে ওয়েবসাইটটিকে সুন্দরভাবে সাজানো। অর্থাৎ লাইটওয়েট অ্যাট্রাক্টিভ কোন টেমপ্লেট ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ সর্বোপরি ওয়েবসাইটটিকে আকর্ষণীয় করতে হবে। আপনার যদি এ বিষয়ে ধারনা থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই। তবে যদি ধারণা না থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি কোন ওয়েব ডিজাইনারের সাহায্য নিতে। তবে একটু ধারনা থাকলেও ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে নিতে।সেজন্য আপনার কিছুটা ইনভেস্ট করতে হবে। ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হবে।

এট্রাক্টিভ কনটেন্ট তৈরি করা

এখানে আপনার মূল কাজ। আপনি আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে যত সুন্দর ভাবে ডিসক্রিপশন লিখতে পারবেন। যত ভালো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে পারবেন। আপনার প্রোডাক্ট ততবেশি সেল হবে। তাই কনটেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনার কনটেন্ট যেন প্রফেশনাল হয়, এট্রাক্টিভ হয়, চমৎকার হয়।

কনটেন্ট প্রমোট করা

অনেক সময় দেখা যায় খুব সুন্দর কনটেন্ট লেখার পরেও কনটেন্টটি  করে না। সে ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে কনটেন্ট সমূহ  করানো সম্ভব।যেমন ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, পিন্টারেস্ট সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট শেয়ার করতে পারেন। পাশাপাশি কনটেন্ট গ্রুপ প্রমোট করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে অ্যাড দিতে পারেন। কনটেন্ট প্রমোট করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল এসইও। 

শেষ কথাঃ

আপনি যদি পর্যাপ্ত শ্রম এবং সময় দিয়ে কাজ করতে পারেন। তাহলে অনলাইন প্লাটফর্মে আপনার জন্য ইনকাম এর অন্যতম একটি উৎস হতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি যদি ক্রিয়েটিভ হন সুন্দর করে কনটেন্ট লিখতে পারেন সুন্দর করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।তো পোস্টটি পড়ার পর আপনি কি ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন।

নিয়মিত টেক রিলেটেড সকল নিউজ, টিপস ও ট্রিকস পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব কর। ফেসবুক পেজে লাইক দেও ও টুইটারে ফলো কর। এবং তোমার আইডিয়া আমাদের জানাতে কমেন্ট কর অথবা matubbormdkawsar@gmail.com ঠিকানায় মেইল কর।

Post a Comment

1 Comments